১৯ সংখ্যাটির মুজেযা।

(১৯ সংখ্যা বর্ণনার আগে কিছু কথা বলে নেই, আমি বলছি না যে ১৯  বিশেষ একটা

সংখ্যা। এই ১৯ সংখ্যার  উপর কুরআন নির্ভরশীল নয়। কিন্তু ১৯ প্রকৌশল কুরআনে

আছে তবে এটার কারণ মহান আল্লাহ তালাই ভালো জানেন )

 

 

     ১৯ এর প্রকৌশল: মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেন : عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ  “এরপর ঊনিশ” ৭৪ নং সূরা মুদ্দাছির এর ৩০ নং আয়াত।

এই ১৯ এর প্রকৌশল এর কিছু ব্যাখ্যার দিকে নজর দিলে হতভম্ব হয়ে যাবার  মত কথাবার্তা সামনে আসবে।যার দরুণ মানব মস্তিষ্ক কিংকর্তব্যবিমুড়তার মধ্যে ডুবে যায় এবং হৃদয় অজান্তে বলে উঠে যে, এই কিতাব…এই কুরআন কোন মানুষের বাণী নয় বরং ইহা রহমান, রহিম, এই দুনিয়ার মালিকের বাণী। কিছু ব্যাখ্যা পেশ করা হলো –

   ১. সূরা আলাক এর ১ম ৫ আয়াতে ১৯টি শব্দ এবং ঐ ঊনিশ  শব্দের মধ্যে ৭৬টি অক্ষর যা ১৯ দ্বারা পুরোপুরি ভাগ হয়ে যায়। ৭৬÷১৯ = ৪

গুনের উদাহরণ ১৯ × ৪ = ৭৬ ।

 

    ২.আল-কুরআন মাজীদ-এ ১১৪টি সূরা আছে, এ সংখ্যা ১৯ দ্বারা পূর্ণভাবে ভাগ করা যায় ।

ভাগের উদাহরণ ১১৪ ÷ ১৯ = ৬

গুনের উদাহরণ ১৯ × ৬ = ১১৪

 

   ৩. আল কুরআনে  সূরাগুলো উল্টোদিক থেকে অর্থাৎ ১১৪ নং সূরা  নাস, ১১৩ নং সূরা  ফালাক, ১১২ নং সূরা  ইখলাস, এভাবে গুনে আসলে ১৯ নং সূরা  অর্থাৎ  ৯৬নং সুরাটি পড়ে  সূরা আলাক ।

   ৪. একথা কি পরিমাণ গুরত্ব রাখে যে, পবিত্র আল কুরআনে শুরু দ্বারা, যার মধ্যে ১৯টি অক্ষর রয়েছে । এর মধ্যে ৪টি শব্দ:

এ আয়াতের প্রতিটি শব্দ যতবার আল কুরআনে এসেছে তা ১৯ দ্বারা বিভক্ত ।

প্রথম শব্দ আল কুরআনে ১৯ বার এসেছে। দ্বিতীয় আল কুরআনে ২৬৯৮ বার এসেছে। যা ১৯ দ্বারা পুরোপুরি বিভাজ্য:

ভাগের উদাহরণ ২৬৯৮ ÷ ১৯ = ১৪২

গুনের উদাহরণ ১৯ × ১৪২ = ২৬৯৮

তৃতীয় শব্দ الر حمن ৫৭ বার এসেছে যা ১৯ দ্বারা পূর্ণভাবে বিভাজ্য। ভাগের উদাহরণ ৫৭ ÷ ১৯ = ৩ গুনের উদাহরণ  ১৯ ×৩=৫৭ চতুর্থ শব্দ الرحيم একশত চৌদ্দ বার এসেছে, যা ১৯ দ্বারা পুরোপুরি বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ ১১৪ ÷ ১৯ = ৬

গুনের উদাহরণ ১৯ × ৬ = ১১৪

চিন্তা করুন চার শব্দের সংখ্যাই ১৯ দ্বারা পুরোপুরি বিভাজ্য। এ ধরনের হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয় ।

     ৫. আয়াত সূরা এসেছে। একবার শুরুতে এবং দিতীয়বার ভিতরে । …. এ জন্য সূরা  তাওবার শুরুতে নেই, অন্যথায় এর সংখ্যা ১১৫ হয়ে যেত এবং ১১৫ সংখ্যা ১৯ দ্বারা নি:শেষে বিভাজ্য হত না (আল কুরআনে সমগ্র সূরার সংখ্যা ১১৪ এবং সূরা তাওবাহ ছাড়া সকল সূরার প্রথমে আছে ।

     ৬. আল কুরআনে ২৯টি সূরার  শুরু হরফ দ্বারা হয়েছে অর্থাৎ হরুফে মুকাত্তায়াত দ্বারা হয়েছে। আরবি ভাষার ২৮ হরফের ১৪টি বর্ণ বিভিন্ন জোড়ের মাধ্যমে এ সূরা গুলোর শুরুতে অবস্থান নিয়েছে। এ হরফগুলো নিম্নে দেয়া হলো : ১.الف  ২. ح    ৩. ر  ৪. س  ৫. ص  ৬. ط  ৭.  ع  ৮.  ق  ৯.  ك  ১০. ل  ১১. م  ১২. ن  ১৩. ه  ১৪. ى

এ ১৪ হরফ দ্বারা যে ১৪ সেট হরুফে মুকাত্তায়াত তৈরী হয় তা নিম্নরুফ :

১.  এক অক্ষর বিশিষ্ট : ১.ص  ২. ق  কাফ  ৩. ن  সেট

২. দুই অক্ষর বিশিষ্ট : ১. طٰهٰ  ২. يس ৩.ও طس  ৪. حم  ৪ সেট

৩.  তিন অক্ষর বিশিষ্ট : ১.الم  ২. الر  ৩. طسم  ৪. عسق ৪  সেট

৪.  চার  অক্ষর বিশিষ্ট : ১.المر  ২.المص  ২ সেট

৫.  পাঁচ  অক্ষর বিশিষ্ট : ১.كهيعص  ১ সেট

উল্লিখিত চিত্রের উপর এবার চিন্তা করুন, বুঝা যায় যে, হরুফে মুকাত্তায়াত যা ২৯ সূরার প্রথমে ব্যবহৃত হয়েছে, এগুলোর সংখ্যা ১৪টি এবং তাদের সেট সংখ্যা   ১৪টি, এখন ১৪ হরফ + ১৪ সেট + ২৯ সূরা = ৫৭ সর্বমোট সংখ্যা ৫৭ ও ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ : ৫৭ ÷ ১৯ = ৩

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ৩ = ৫৭

যোগের উদাহরণ : ১৯ + ১৯ + ১৯ = ৫৭

     ৭. হরফে মুকাত্তায়াত এর মধ্যে ق নিন। এই হরফ ق দুই সূরার প্রথমে এসেছে, অর্থাৎ সূরা `কাফ’ এবং সূরা শুরা حمعسق এর আকারে। এগুলোর প্রতিটি সূরায় ق হরফটি ৫৭ বার এসেছে, যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ : ৫৭ ÷ ১৯ = ৩

গুনের উদাহরণ :  ১৯ × ৩ = ৫৭

সূরা `কাফ’ ও ق হরফটি ৫৭বার এসেছে এবং حم عصق সূরার মধ্যেও হরফটি ৫৭ বার এসেছে, যদিও শেষোক্ত সুরাটি অনেক দীর্ঘ ।

উভয় সূরার মধ্যে ق এর সমষ্টি ১১৪ এবং আল কুরআন সূরা সংখ্যাও ১১৪টি। অর্থাৎ আল কুরআনে ১১৪টি সূরা রয়েছে এবং ق হরফ যা কুরআন মাজীদের প্রথম অক্ষর এবং তার নামের প্রতিনিধিত্ব করে উহাও ১১৪বার এসেছে । এভাবে এ কথা বলা বৈধ হবে যে, পবিত্র আল কুরআনের ঐশী আকারের হিসাবের ব্যবস্থা ১১৪ সূরার উপর হয়েছে ।

    ৮. আল কুরআন মাজীদে অতীতকালের গোত্রগুলোকে قوم শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন : অথচ সূরা `কাফ` এর ১৩নং আয়াতে আল কুরআনে বর্ণনা করেন وعاد وفرعون واخوان لوط এখনে اخوان لوط বলার কারণ, হজরত লূত (আ) এর কওম এর উল্লেখ আল কুরআনে قوم শব্দ দাড়ায় সাধারনত উল্লেখ করা হয়েছে । অথচ শুধুমাত্র এ আয়াতে قوم শব্দের পরিবর্তে اخوان বিশেষভাবে কেন ব্যবহার হলো?

এর কারণ এই যে, যদি এখানে قوم শব্দটি ব্যবহার করা হত তাহলে একটি ق বেড়ে যেত এবং এই সূরায় ق হরফের ব্যবহার ৫৭ এর পরিবর্তে ৫৮ হয়ে যেত  তাহলে ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  ভাগ করা যেত না। এভাবে পবিত্র আল কুরআনের হিসাবের নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে যেত ।

     ৯. সূরা  আল কলম এর শুরুতে ن হরফ এসেছে এ সূরায় ن হরফটি ১৩৩ বার এসেছে। যা ১৯ দিয়ে নিঃশেষে  বিভাজ্য।

ভাগের উদাহরণ : ১৩৩ ÷ ১৯ = ৭

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ৭ = ১৩৩

   ১০. অক্ষর ص টি আল কুরআনে তিন সূরার  প্রথমে এসেছে। সূরা  আল আরাফে  المص ? এর আকৃতিতে,

সূরা মারিয়ামে كهيعص ? এর আকৃতিতে,

সূরা  হূদে ص ? এর আকৃতিতে এই সূরার মধ্যে ব্যবহৃত ص এর সংখ্যা ১৫২ যাকে ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  ভাগ করা যায় ।

ভাগের উদাহরণ : ১৫২ ÷ ১৯ = ৮

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ৮ = ১৫২

   ১১ . সূরা আল আরাফের ৬৯তম আয়াতে একটি শব্দ بسطة এসেছে। আরবি এ শব্দ س দিয়ে লেখা  যায় কিন্তু যখন এ আয়াত নাজিল হয় তখন এ নির্দেশও ছিল যে শব্দকে ص দিয়ে লেখা যাবে । এর কারণ কি ছিল?

কারণ এই ছিল যে, যদি এই শব্দ س দ্বারা লেখা হয় এ অবস্থায় একটি ص কম হয়ে যায় এবং উল্লিখিত সূরাগুলোতে ص হরফের পুরনো সংখ্যা ১৫২ এর পরিবর্তে ১৫১ হয়ে যায় যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  বিভাজ্য হবে না এবং কুরআনে কারীমের হিসাবি নিয়ম সঠিক হবে না ।

   ১২ . যে সকল সূরার প্রারম্ভে এক হরফের  হরফে মুকাত্তায়াত দ্বারা হয়। এ সূরা গুলোর মধ্যে প্রতিটি হরফ পৃথক পৃথক জমা করা যায়, তাহলে এর সমষ্টি ১৯ দ্বারা নিঃশেষে ভাগ হবে। শুধু তাই নয় বরং এ হরফগুলোর স্ব স্ব সংখ্যা যদি একত্র করা হয় তাহলেও সামগ্রিক সংখ্যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  ভাগ হবে।

(ক) সূরা طه ? এর মধ্যে দু হরফ  ط  এবং ه আছে। এ সূরায়  ط  অক্ষরটি ২৮বার এবং ه ৩১৪ বার এসেছে এবং উভয়ের সমষ্টি ৩৪২ যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ : ৩৪২  ÷ ১৯ = ১৮

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ১৮ = ৩৪২

(খ) সূরা ইয়াসিনে ي আছে ২৩৭ বার এবং س আছে ৪৮ বার এবং উভয়ের সমষ্টি ২৮৫ যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ : ২৮৫ ÷ ১৯ = ১৫

গুনের উদাহরন : ১৯ × ১৫ = ২৮৫

আরো একটি বিস্ময়কর হাকীকত

 

 ১.আল কুরআনে ২৯ সূরার শুরুতে যে হুরুফে মুকাত্তায়াত আছে এবং এ সূরাগুলো যতবার এ সূরাগুলোতে এসেছে এদের যোগফল ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখা করা হলো :

 সূরা            হরফ        সংখ্যা 
 বাকারা            الم ১৯৯১বার
 আলে ইমরান            الم     ৫৭১৪ বার
 আন কাবুত           الم   ১৬৮৫ বার
 রূম           الم     ১২৫৯ বার
 লুকমান          الم     ৮২৩ বার
 রা’দ المر (এখানে ر বাদদিয়ে)    ১৩৬৪ বার
 আরাফ المص (এখানে ص বাদদিয়ে)    ৫২৬০ বার

 

যোগফল : ২৬৬৭৬ বার

 

এ সমগ্র সংখ্যাটি ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ : ২৬৬৭৬ ÷ ১৯ = ১৪০৪

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ১৪০৪ = ২৬৬৭৬

 

২ . হরুফে মুকাত্তায়াত  الم নিম্নোক্ত সূরাসমূহের এসেছে। এ সূরাগুলোর মধ্যে এ অক্ষরগুলোর সংখ্যার যোগফল নিম্নে দেয়া হলো এবং সুরা رعد  এর ر এর হিসাব এর টোপালের সঙ্গে যোগ করা হলো –

 সূরা            হরফ        সংখ্যা 
 ইউনুস            الر     ২৫২২ বার
 হুদ            الر     ২৫১৪ বার
 ইউসুফ           الر     ২৪০৫ বার
 ইবরাহীম           الر     ১২০৬ বার
 হিজর           الر     ৯২৫ বার
 রা’দ           المر (শুধু  ر )     ১৩৫ বার

 

যোগফল : ৯৭০৯

 

এই  ৯৭০৯ সংখ্যা দ্বারা নিঃশেষে  বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ :   ৯৭০৯ ৬ ÷ ১৯ = ৫১১

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ৫৫১ =  ৯৭০৯

৩ . নিম্নলিখিত সূরাগুলোতে حم  হরফ প্রথমে এসেছে । এদের সংখ্যা = ০৭ বিশ্লেষণ করা হলো :

 

 সূরা            হরফ        সংখ্যা 
 বাকারা           حم  ১৯৯১ বার
 আলে ইমরান            حم     ৫৭১৪ বার
 আন কাবুত           حم   ১৬৮৫ বার
 রূম           حم     ১২৫৯ বার
 লুকমান           حم     ৮২৩ বার
 রা’দ            حم    ১৩৬৪ বার
 আরাফ    حم عسق ( শুধু ح ও م )    ৫২৬০ বার

মোট সংখ্যা =২১৬৬

 

২১৬৬ সংখ্যাটি ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  বিভাজ্য ।

 

ভাগের উদাহরণ : ২১৬৬ ÷ ১৯ = ১১৪

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ১১৪ = ২১৬৬

 

৪. সূরা `শূরা ‘ এর মধ্যে পাঁচ হরূফ حم عسق  রয়েছে।

এ পাঁচ হরফ ق ، س ، ع ، م ، ح এ সূরার মধ্যে সর্বমোট ৫৭০ বার রয়েছে।

যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য

 

ভাগের উদাহরণ : ৫৭০ ÷ ১৯ = ৩০

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ৩০ = ৫৭০

 

৫. নিম্নলিখিত সূরাগুলোর মধ্যে ط  এর س হরফ এসেছে। এর মোট সংখ্যার ওপরে চিন্তা করি

 সূরা            হরফ        সংখ্যা 
 নামল       طس     ১২০ বার
 শুয়ারা            طسم (বাদ দিয়ে م)     ১২৬ বার
 কাসাস           طسم (বাদ দিয়ে م)     ১১৯ বার
 ত্বহা            طه (বাদ দিয়ে ه)    ২৭ বার
 হিজর           يس (বাদ দিয়ে ى)     ৪৮ বার
 শূরা           حم عسق (বাদ দিয়ে س)     ৫৩ বার

মোট সংখ্যা =৪৯৪

 

৪৯৪ সংখ্যাট ১৯ দ্বারা নিঃশেষে  বিভাজ্য ।

ভাগের উদাহরণ :  ৪৯৪ ÷ ১৯ = ২৬

গুনের উদাহরণ : ১৯ × ২৬ = ৪৯৪

আল কুরআনে এত এত নিদর্শন থাকার পরেও কেন আমরা আল কুরআন থেকে দূরে  চলে যাচ্ছি?

 

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply