আমেরিকানদের সাথে ইরাকের বাইরে যুদ্ধ করার বিধানঃ ফতোয়া দিয়েছেন শাইখ নাসির ইবন হামাদ আল ফাহাদ

Fight
Missile

আমেরিকানদের সাথে ইরাকের বাইরে যুদ্ধ করার বিধানঃ
ফতোয়া দিয়েছেন শাইখ নাসির ইবন হামাদ আল ফাহাদ
بسم الله الرحمن الرحيم

আসসালামু আ’লাইকুম।সবাইকে আমার আন্তরিক প্রীতি, সম্মান, শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করছি।আশাকরি আল্লাহ্র অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।ভূল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।এবারের টিউন টি ফতোয়া বিষয়ক । যাক আর কথা না বাড়িয়ে টিউন টি শুরু করি।
প্রশ্নঃ
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু শাইখ, আমি আপনার কিতাব আত-তিবইয়ান ফি কুফরি মান আ’ন আল-আমরিকানের “ক্রুসেডারদের আক্রমণ অভিযানের দ্বিতীয় পর্বেরঃ ইরাক যুদ্ধ ” অধ্যায়টি পড়েছি। আমি আপনার ঐ কিতাব এবং ঐখানে বর্নিত ক্রুসেডারদের আক্রমণ অভিযানের ব্যাপারে বিধান থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। যেমন আমেরিকানদের সাহায্য করার ব্যাপারে বিধান, ইরাকি তাগুত সরকারকে সাহায্য করার ব্যাপারে বিধান এবং ইরাকের মুসলিমদের সাহায্য করার ব্যাপারে বিধান। শধুমাত্র সেখানে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ন বিষয় বর্নীত ছিল না তা হলো আমেরিকার সাথে জিহাদ করার ব্যাপারে বিধান কি এবং আমেরিকানদের সাথে ইরাকের বাইরে ক্বিতালের ব্যাপারে বিধান কি? যেমন তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জায়গা ও তাদের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় আক্রমণ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আমেরিকানদেরকে আঘাত এইটা কি জিহাদ হিসেবে গন্য হবে? যেসব দেশে তারা আমাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত নয় সেখানে আমেরিকান এবং অন্যান্যদের সাথে আমাদের কি শান্তি চুক্তি আছে? রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস “কেউ যদি কোনও চুক্তিবদ্ধ ব্যাক্তিকে হত্যা করে তবে সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না”। আমরা যদি বলিও তারা কোনও চুক্তিতে নেই আমাদের পক্ষ থেকে তারপরও তাদের উপর আক্রমণ মুসলিমদের উপর বড় ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে তাহলে কি তাদের সাথে যুদ্ধ করা হালাল হবে?
যাজাকুমুল্লাহ খায়রান শাইখ

উত্তরঃ
ওয়ালাইকুমুসসআলাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, সন্দেহাতীতভাবে এই যুগে ইসলাম এবং মুসলিমদের সবথেকে বড় শত্রু হলো এই আমেরিকানরা এবং আমরা যদি ইসলাম ও মুসলিমদের উপর তাদের জুলুম ও অপরাধ বর্ননা করতে চাই তাহলে অনেক সময় লেগে যাবে। তারা মুসলিম জাতিকে হত্যা করছে। তারা ইরাক ও আফগানিস্তানে ২০ লক্ষের উপর মুসলিম হত্যা করেছে এবং আমাদের আছে অবরোধপ্রাপ্ত উম্মাহ, আমাদের বহিষ্কারের শিকার উম্মাহ এবং মগজ ধোলাইকৃত উম্মাহ। আমেরিকানরা ধনী মুসলিমদের সম্পত্তি লুট করে, মুসলিমদের বেশিরভাগ জায়গা তারা দখল করে আছে এবং মুসলিমদের উপর তাওয়াগীত মুরতাদ শাসক চাপিয়ে দিয়েছে। তারা এই উম্মাহর উপর যা করেছে তা অতীত এবং নিকট ইতিহাসে কেউ করেনি এই উম্মাহর উপর।

আজ আমরা দেখি হাজার হাজার রকেট আর টন কে টন বোমা তারা পৃথিবীর সবজায়গায় মুসলিমদের উপর নিক্ষেপ করছে। তারা শিশু,নারী এবং বৃদ্ধদের মাঝে কোনও পার্থক্য করে না! কেনইবা তারা পার্থক্য করবে? কারন তাদের চোখে মুসলিমরা কীটপতঙ্গ ছাড়া আর কিছুই না, যেই কীট পৃথিবী থেকে উচ্ছেদ করা দরকার! তাই এই অভিশপ্তদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাদের জন্য ওৎপেতে থাকা,তাদের সাথে যুদ্ধ করা তারা যেখানেই থাকুক। এইটি সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ন ওয়াজিব কাজ। আমেরিকানদের অন্যায় কাজগুলো আপনাদেরকে আল্লাহ্* সুবহানুহু ওয়াতাআলার শর্তের নিকটে নিয়ে যেতে পারে কারন আমেরিকানরা জমিনে ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি করছে, অনেক আল্লাহ্*র বান্দাকে তারা হত্যা করছে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। তাই এই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই তারা এই যুগে “কুফফারদের নেতা”। আল্লাহ্* সুবহানুহু ওয়াতাআলা বলেনঃ “কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কোন শপথ নেই যাতে তারাফিরে আসে।” (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১২)।
“আমার যদি শুধুমাত্র ১০টি অস্ত্র থাকত তাহলে আমি আমার সকল অস্ত্র তলোয়ার তাদের দিকে নিক্ষেপ করতাম! তাদের ব্যাতিত আর কেউ না এবং আমি আল্লাহ্*র শপথ করে বলছি আল্লাহ্*র ইচ্ছায় যদি তাদের বিরুদ্ধে শহিদী (ফিদায়ী) হামলা করার আমার কোনও সহজ সুযোগ হয় আমি এইটি করবো সামান্যতম ইতস্ততা ছাড়া”
যদি আল্লাহ্* সুবহানুহু ওয়াতাআলা এই কোটি কোটি উম্মাহ থেকে শুধুমাত্র হাজারখানেক শহিদী (ফিদায়ী) হামলাকারী তৈরি করে যারা আমেরিকানদের স্থাপনা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে হামলা করে ধ্বংস করবে তাহলে তারা আমেরিকানদের পরাজিত করতো এবং তাদেরকে লজ্জাজনকভাবে ফিরিয়ে দিতো।
এইটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়ঃ
এই ফেরাউনরা কি মুসলিমদের কি বন্দি করছে না? এবং মুসলিমদের সর্বাপেক্ষা শাস্তি দিচ্ছে না পৃথিবী ঘুরে? এবং এরপরও তেমন কোনও বাধার সম্মুখীন হয়নি (কোটি কোটি মুসলিম থেকে) বরং তারা তাওয়াগীত এবং তাদের সাহা্য্যকারীদের থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছে?

জেনে রাখুন আমার প্রিয় ভাইয়েরা যারা এই আমেরিকানদের তারা যেই স্থানে হামলা করেছে সে স্থান ব্যাতিত অন্য কোনও স্থানে হামলা করাকে হারাম মনে করেন তার কারন নিন্মে বর্নিত দুইটি কারনের যেকোনো একটিঃ
প্রথমত, চুক্তির ব্যাপারে সন্দেহঃ তাই তারা বলে ঐ কুফফাররা আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ তাই হাদীস অনুযায়ী “যে কেউ চুক্তিবদ্ধ কাউকে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না”।
দ্বিতীয়তঃ মাসলাহা (লাভ) এবং মাফশাদা (ক্ষতি) এর ব্যাপারে সন্দেহঃ তাই তারা বলে আমেরিকানদের সাথে যুদ্ধ মুসলিমদের উপর বিপদ ডেকে আনবে। তাই আমরা এর উত্তরে বলি, চুক্তির ব্যাপারে বলতে গেলে, ওয়াল্লাহি আল্লাহ্* তাআলার কসম! তাদের এবং আমাদের মাঝে কোনও চুক্তি নেই! তারা মুহারিব (মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত জাতি), তারা যেইখানে থাকুক যদিও তারা কাবার গিলাফ ধরে থাকে! আর যেসব সরকার তাদের সাথে চুক্তি করেছে সেগুলো শরীআহর দৃষ্টিতে সেগুলো বৈধ চুক্তি নয় বরং এই চুক্তি তাগুত জাতিসংঘের নিয়মনীতিতে করা! এই সকল হারাম চুক্তিতে যারা স্বাক্ষর করছে তাদের আল্লাহর জন্য কোনও চিন্তা নেই, তাদের ক্ষমতার আসন এবং অবস্থান তাদের কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ন। যদি সেই সকল মিথ্যা চুক্তিকে আমরা স্বীকার করেও নিই তারপরেও এই চুক্তি দশবার না শতবার ভেঙ্গে গেছে যেমন তাদের যুদ্ধ এবং ক্রুসেড ঘোষনা ইসলাম এবং আমাদের উপর, মুসলিমদেরকে তাদের ভূমি থেকে উৎখাত করা, যারা মুসলিমদেরকে উৎখাত করেছে তাদেরকে সাহায্য করা, অনেক সন্ধি ভঙ্গ করা, ইসলামের শত্রুদেরকে সাহায্য করা, মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা এবং তাদেরকে হত্যা করা, মুসলিমদের সম্পদকে ধ্বংস করে। এইসব থেকে কোনটি প্রমান করে তাদের সেই চুক্তি শরীআহ্ অনুযায়ী???
যদি নবীগনের নেতা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাঈশদের মাঝে করা চুক্তি বনী কুরাঈশ কতৃক বনী বকরকে খাজাহার উপর গোপনে সাহায্য করার কারনে বাতিল হয় যা শুধুমাত্র একবার করার কারনে, তাহলে আমেরিকার সেইসব কাজের ব্যাপারে কি যা গুনে শেষ করা যাবে না??? তাছাড়াও এইটা শরীআহ্ ভিত্তিক চুক্তি হতে পারে না যাতে ক্রুসেডারদের নিরাপত্তা দেয়া হয় যাতে তারা যেকোনোভাবে তারা চায় সেভাবে মুসলিমদের উপর আক্রমণ চালাতে পারে।
সকল প্রশংসা আল্লাহ্*তাআলার। আমি যথেষ্ঠ পরিমান দলিল এবং বক্তব্য দিয়েছি যাতে এইটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে তাদের এবং আমাদের মাঝে কোনও চুক্তি নেই শুধুমাত্র খোলা তরবারি ছাড়া। এছাড়াও আরও অনেক সন্দেহ আমি আমার “নাশর আল-বুনুউদ” কিতাবে দিয়েছি; ইনশাআল্লাহ্* শীঘ্রই তা প্রকাশ পাবে।
মাসলাহা (লাভ) এবং মাফশাদা (ক্ষতি) এর ব্যাপারে যদি এইটার ক্ষতির পরিমাণ লাভ অপেক্ষা বেশি হয় তাহলে এখন এইটি হালাল হবে না। শুধুমাত্র আমি আপনাদের দুইটি বিষয় জানাচ্ছিঃ প্রথমত, মাসলাহা (লাভ) এবং মাফশাদা (ক্ষতি) বলতে এইখানে শরীআহ্ এর দৃষ্টিতে লাভ-ক্ষতি। কারো ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার এইখানে প্রযোজ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, সেইসব ব্যক্তি জিহাদ এর মাফশাদার (ক্ষতি) ব্যাপারে কথা বলবেন তারা হলো মুজাহিদিনরা। তারা নয় যারা ঘরে বসে থাকে এবং একটি বন্দুকও চালাতে পারে না।
সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আমি এইটাই বলতে চাই আমি আমার দুইটি কিতাবে এই বিষয়ে বিষদ বর্ননা করেছি যা আমি শীঘ্রই প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ সুবহানুহু ওয়াতাআলা আমাকে শত্রুদের থেকে নিরাপদ রাখেন)। এর একটি কিতাব হলও নাশর আল-বুনুদ যা আমি উপরে বর্ননা করেছি। দ্বিতীয়টি হচ্ছে আত্ব-তিবইয়ান ফি কুফরি মান আল-আমেরিকান এর দ্বিতীয় অংশ।
আমি আল্লাহ্* সুবহানুহু ওয়াতাআলার কাছে দোয়া করি যাতে তিনি ইসলাম এবং মুসলিমদেরকে বিজয় দান করেন, আমেরিকা এবং তার দালালদের ধ্বংস করেন, আমাদের আত্মাকে এদের থেকে মুক্ত করেন, আমাদের প্রতি তাদের হিংসা বিদ্বেষ দূর করেন এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর।
লিখেছেন প্রিয় শাইখ নাসীর আল-ফাহাদ, ১০ই এপ্রিল,২০০৩।
কষ্টকরে আমার এই টিউনটি দেখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।আর কেমন লাগল কমেন্ট্স করবেন।আশা করি সবার ভাল লাগছে।আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply