মিসডকল ও মোবাইল

মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম

অযথা মিসডকল দিয়ে কাউকে বিরক্ত করা জায়েয নেই
বিনা প্রয়োজনে কাউকে মিসডকল দেওয়া গুনাহ ও নাজায়েয। কেননা বিনা প্রয়োজনে মিসডকল দেওয়ার দ্বারা যাকে মিসডকল দেওয়া হচ্ছে তাকে বিরক্ত করা হয়। তার একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটানো হয়। তার খাওয়া-দাওয়া, আরাম-নিদ্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অথচ হাদীস শরীফে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে’।
তদুপরি অযথা মিসডকল দিলে কোনো কারণ ছাড়াই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত রাখা হয়। ফলে প্রয়োজনীয় কথার জন্য অনেকের সংযোগ পেতে কষ্ট হয়। এভাবে মিসডকল দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যস্ত রাখাও জায়েয নেই। কেননা এতে কোম্পানির কোনো লাভ নেই। বরং ক্ষতি আর ক্ষতি। মিসডকলকে নিরুৎসাহিত করার জন্য কিছুদিন আগে এক মোবাইল কোম্পানি ‘ভালো জিনিস বিনষ্টকারী পোকা’র সাথে মিসডকলকারীকে তুলনা করে একটি বিজ্ঞাপনচিত্র পত্রিকায় দিয়েছিল। যা মিসডকল দেওয়ার ক্ষতির বিষয়টি উত্তমভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। মোটকথা যেহেতু মিসডকল দিয়ে কাউকে বিরক্ত করা, অপর মুসলমান ভাইকে কষ্ট দেওয়ার শামিল এবং এরদ্বারা মোবাইল কোম্পানিরও ক্ষতি হয় তাই যখন তখন যেখানে সেখানে মিসডকল দেওয়া থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরি।
মিস্ডকল দেওয়া ভদ্রতা পরিপন্থী ছোট মন-মানসিকতার পরিচায়কও বটে: মিসডকল দেওয়ার দ্বারা নিজের মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। ইচ্ছে করেই নিজকে অপরের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ‘অন্যের চোখে নিজেকে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনো মুমিনের উচিত নয়’।
এটা কেমন কথা যে, প্রয়োজন হলো একজনের আর টাকা খরচ হবে আরেক জনের!?  যার প্রয়োজন সেই কল করবে এই তো ইনসাফের কথা! আর যদি প্রয়োজন না থাকে তাহলে অহেতুক তাকে বিরক্ত করব কেন? কেন তার কাজ-কর্ম ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাব? মনে রাখবেন, বয়োজ্যেষ্ঠ, আলেম, বুযুর্গ, সম্মানী ও মুরুব্বীশ্রেণীর লোকদেরকে মিস্ডকল দেওয়া আদবের খেলাফ এবং অধীনস্থ ও ছোটদেরকে মিসড্কল দেওয়া আত্মমর্যাদার পরিপন্থি।
মিস্ডকল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় নিজে কথা বলি, মোবাইল কোম্পানির দেওয়া অফার ও সুযোগ গ্রহণ করে কিন্তু অপরকে মিসডকল দিয়ে কল ব্যাক করতে বাধ্য করি স্বাভাবিক সময়ে; যখন মিনিট প্রতি দুই/আড়াই টাকা খরচ হয়! চিন্তা করে দেখুন তো, এটা ভদ্রতা ও ইনসাফের কোন্ পর্যায়ে পড়ে!! আল্লাহ তা‘আলা এ ধরনের মন-মানসিকতার লোকদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন। [সহিহ বোখারি  তিরিমিজি  ইবনে মাজাহ  বাইহাকী  তরজমানুস্ সুন্নাহ, খণ্ড ঃ ২, পৃষ্ঠা ঃ ২৪৪  মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল, ২০০৮ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ঃ ২৫]
কখন মিসডকল দেওয়া জায়েয?
পূর্বে বলা হয়েছে যে, অযথা মিস্ডকল দিয়ে কাউকে পেরেশান বা বিরক্ত করা জায়েয নেই। এতে বুঝা গেল, প্রয়োজন হলে মিসডকল দেওয়া জায়েয ও বৈধ। যেমন, কেউ কারো প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পূর্বেই বলে রেখেছে যে, তুমি কল করে টাকা খরচ করো না। প্রয়োজন হলে মিসডকল দিও। আমি ব্যাক করব। অথবা বলল যে, তুমি তৈরী হলে কিংবা অমুক স্থানে পৌঁছলে কিংবা অমুক জিনিস পেলে কিংবা অমুক ব্যক্তি আসলে আমাকে মিসডকল দিও। অথবা কারো মোবাইলে রিং এসেছে, কিন্তু নামাজ বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে মোবাইল রিসিভ করা তার পক্ষে তৎক্ষনাৎ সম্ভব হয়নি। পরে নামাজ ও ব্যস্ততা থেকে অবসর হয়ে সে কলকারীকে এ কথা জানানোর জন্য মিস্ডকল দিল যে, আমি এখন অবসর, আপনি পুনরায় কল করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে মিসডকল দেওয়ার দ্বারা কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। মোটকথা, কারো কোনো ক্ষতি বা বিরক্তির কারণ না হলে মিসডকল দেওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই

4 thoughts on “মিসডকল ও মোবাইল

Leave a Reply