আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ (পর্ব-১)

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ

মানুষের আদি উৎস কি?

Science এর বই গুলোতে মানুষের আদি উৎসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডারউইনের বিবর্তনবাদের theory উপস্থাপিত হয়েছে। চার্লস ডারউইন তার The Origin of Species (১৮৫৯) বইয়ে প্রানী জগতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই theory এর অবতারণা করেন। এই তত্ব মতে মানুষের উৎপত্তি হয়েছে বানর জাতীয় মানুষ (Ape) থেকে, পর্যায়ক্রমে মিলিয়ন বছরের মাধ্যমে।

আবার ধর্মতত্ব অনুসারে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই গঠন ও আকৃতি দিয়ে যে গঠন ও আকৃতি এখন দেখা যায় এবং যা এখন পর্যন্ত অবিক্রীত আছে।

এখানে শুধু মানুষ নয়, ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী পৃথিবীর সকল প্রানীই এবং গাছপালা সৃষ্টি হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে, পর্যায়ক্রমে মিলিয়ন বছরের মাধ্যমে।

আমি এখানে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে justify করব।

এই আলোচনার পর আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন তত্ত্ব আপনারা গ্রহণ করবেন? ডারউইন তত্ব? না ধর্ম তত্ত্ব।

ডারউইন তত্ত্বের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

যদিও প্রাচীন গ্রীসের রুপকথায় এটি প্রচলিত ছিলো, তবুও এই তত্ত্ব উনিশ শতকে বিজ্ঞান জগতের সামনে আনা হয়। বিবর্তন তত্ত্ব সর্বপ্রথম ফ্রেন্স জীববিজ্ঞানী ল্যামার্ক তার Zoological Philosophy (1809) নামক গ্রন্থে তুলে ধরেন। লামার্ক ভেবেছিলেন যে, প্রতিটি জীবের মধ্যেই একটি জীবনী শক্তি কাজ করে যেটি তাদেরকে জটিল গঠনের দিকে বিবর্তনের জন্য চালিত করে। তিনি এটাও ভেবেছিলেন যে, জীবেরা তাদের জীবনকালে অর্জিত গুণাবলি তাদের বংশধরে প্রবাহিত করতে পারে।

বিজ্ঞানী লামার্ক

 

এ ধরনের যুক্তি পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি প্রস্তাবনা করেছিলেন যে জিরাফের লম্বা ঘাড় বিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তখন যখন তাদের পূর্ববর্তী কোন খাটো ঘাড়ের প্রজাতি ঘাসে খাবার খোঁজার পরিবর্তে গাছের পাতা খুঁজতে থাকে। কিন্তু লামার্কের এই বিবর্তনবাদী মডেল বংশানুক্রমিকতার জিনতত্ত্বীয় মডেল দ্বারা বাতিল প্রমাণিত হয়েছে।

এখানে একটা অপ্রাসঙ্গিক কৌতুক মনে পড়ে গেল। শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী কোনটি। ছাত্র তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল – জেব্রা। শিক্ষক আবার জিজ্ঞাসা করলেন কেন? ছাত্রটি আবার বলল স্যার পৃথিবীতে প্রথমে তো সব সাদা কালো ছিলো। জেব্রা তো এখনও সাদা কালো। তাই এটাই সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী।

মেন্ডেল যার আবিষ্কারের মাধ্যমে natural selection এর ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে DNA এর গঠন আবিষ্কারের ফলে প্রকাশিত হয় যে, জীবিত বস্তুর কোষের নিউক্লিয়াস বিশেষ ধরণের জৈবিক সঙ্কেত ধারণ করে এবং এ তথ্য অন্য কোন অর্জিত গুণ দ্বারা পরিবর্তনযোগ্য নয়। অন্য কথায় জিরাফের জীবনকালে জিরাফ যদি গাছের উপরের শাখাগুলোর দিকে ঘাড় লম্বা করতে গিয়ে তার ঘাড়কে কিছুটা লম্বা করে ফেলতে সক্ষম হয়ও তবুও তা তার বংশধরে পৌছাবে না। সংক্ষেপে লামার্কের তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার দ্বারা বাতিল হয়ে গেছে এবং তা একটি ত্রুটিপুর্ণ ধারণা হিসেবে ইতিহাসে রয়ে গেছে।

ওয়াটসন ও ক্রিক, যারা DNA এর ডাবল হেলিক্স আবিষ্কার করেন।

এর পরে আসেন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন। তার দেয়া তত্ত্বটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় এবং এই তত্ত্বটি Darwinism বা ডারউইনের বিবর্তনবাদ নামে পরিচিত।

ডারউইনিজমের জম্ম

ডারউইন ১৮৩১ সালে পাঁচ বছরের জন্য সমুদ্র ভ্রমণে বের হন। এই ভ্রমণে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রচন্ড প্রাভাবিত হন, বিশেষ করে গালাপাগোস দ্বীপের Finch পাখির ঠোঁট দেখে। এই পাখি গুলোর বিভিন্ন রকমের ঠোঁট দেখে তিনি মনে করেন যে পরিবেশের সাথে অভিযোজনের ফলাফল।

Finch পাখির ঠোঁট


ডারউইন এগুলোকে গালাপাগোস দীপপুঞ্জে দেখেছিলেন এবং তার তত্ত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরেছিলেন। আসলে, পাখির ঠোটের এ বিভিন্নতার কারণ হল Genetic Variation কোন Macroevolution নয়।

চার্লস ডারউইন

তার এই ভ্রমণ শেষে তিনি লন্ডনের একটি পশু মার্কেট পরিদর্শন করেন। তিনি এখানে দেখতে পান যে breeders রা সংকরয়নের মাধ্যমে নতুন চরিত্রের গরু উদ্ভাবন করছে।

এই সব অভিজ্ঞতা লাভের পর তিনি ১৮৫৯ সালে তার একটি বই প্রকাশ করেন The Origin of Species নামে। এই বইয়ে তিনি তার মতবাদকে তুলে ধরেন। তিনি এখানে বলেন- সকল প্রজাতি একটি কমন পুর্বপুরুষ থেকে এসেছে। (অবশ্য এই কমন পূর্বপুরুষ্ টি কোথা থেকে এসেছে তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি)।

চলবে………………………………………………………

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

One thought on “আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ (পর্ব-১)

  • December 8, 2012 at 5:30 pm
    Permalink

    অবশ্যই চলবে
    পরবর্তি পোস্ট এর অপেক্ষায় আছি

Leave a Reply