লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব- ৩)

আসসালামু আলাইকুম,

সবাই ভালো আছেন আশা করি।আবার আসলাম নতুন পোস্ট নিয়ে।যারা এই ধারাবাহিক পোস্টের আগের পর্ব পড়তে পারেননি, তারা নিচের লিঙ্ক থেকে পড়ে নিন।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর মর্মকথা (পর্ব- ১)

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-২)

২/ “لا إله إلا الله “এর ফজিলত ।

এ কালিমার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে এবং আল্লাহর নিকট এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে ।

তন্মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য :

* যে ব্যক্তি সত্য -সত্যিই কায়মনোবাক্যে অ কালিমা পাঠ করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ।

আর যে ব্যক্তি মিছে -মিছে এই কালিমা পাঠ করবে তা দুনিয়াতে তার জীবন ও সম্পদ হেফাজত করবে বটে , তবে তাকে এর হিসাব আল্লাহর নিকট দিতে হবে ।

* এটি একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য, হাতেগোনা কয়েকটি বর্ণ এবং শব্দের সমারোহ মাত্র , উচ্চারণেও অতি সহজ কিন্তু কিয়ামতের দিন পাল্লায় হবে অনেক ভারী ।

* ইবনে হেব্বান এবং আল হাকেম আবু সাইদ খুদরী রাঃ হতে বর্ণনা করেন , রাসূল সাঃ বলেন মূসা আঃ একদা আল্লাহ তা’য়ালাকে বললেন হে রব আমাকে এমন একটি বিষয় শিক্ষা দান ক্রিন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্বরণ করব এবং আপনাকে আহবান করব । আল্লাহ বললেন হে মূসা বলো, لا إله إلا الله মূসা আঃ এলেন এত আপনার অকল বান্দাই বলে থাকে । আল্লাহ বললে হে মূসা আমি ব্যতীত সপ্তাকাশ ও এর মাঝে অবস্থানকারী সকল কিছু এবং সপ্ত জমীন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় ” لا إله إلا الله” এর পাল্লা ভারী হবে ।( হাকেম বলেন , হাদিসটি সহীহ )

* আব্দুল্লা বিন অমর হতে বর্ণিত রাসূল সাঃ বলেনঃ সব চেয়ে উত্তম দো’য়া আরাফাত দিবসের দো’য়া এবং সবচেয়ে উত্তম কথা যা আমি এবং আমার পূর্ববতী নবীগন বলেছেন তাহলঃ لا إله إلا الله و حده لا شر يك له ‘ له الملك و له الحمد و هو على كل شيء قد ير অর্থাৎ , আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য মাবুদ নেই , তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই . রাজত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান ” (তিরমিযি , কিতাবুদ দাওয়া , হাদিস নং ২৩২৪)

* এ কালিমা যে সমস্ত কিছু হতে গুরুত্বপূর্ণ ও ভারী তার আরেকটি প্রমান হল , হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে অপর একটি হাদিসের বর্ণিত হয়েছে রাসূল সাঃ বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সকল মানুষের সামনে ডাকা হবে তার সামনে নিরাব্বইটি (পাপের) নিবন্ধ পুস্তুক রাখা হবে এবং একেকটি পুস্তকের পরিধি হবে চক্ষুদৃষ্টির সীমারেখার সমান । এর পর তাকে বলা হবে , এই নিবন্ধ পুস্ততে যা কিছু আছে তাকি তুমি অস্বীকার কর ? উত্তরে ঐ ব্যক্তি বলবে , হে রব আমি তা অস্বীকার করিনা । তার পর বলা হবে , এর জন্য তোমার কোন আপত্তি আছে কিনা ? অথবা এর পরিবর্তে তোমার কোন নেক কাজ আছে কিনা ? তখন সে ভীত -সন্ত্রস্ত অবস্থায় বলবে , না তাও নেই । অতপর বলা হবে আমার নিকট তোমার কিছু পূন্যের কাজ আছে এবং তোমার উপর কোন প্রকার অত্যাচার করা হবে না । অতঃপর তার জন্য একখান কার্ড বের করা হবে তাতে লেখা থাকবে أشهد أن لا إله إلا الله و أشهد أن محمدا عبده و ر سوله

অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মা’বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর বান্দা ও তার রাসুল ।

এখন ঐ ব্যক্তি বিস্ময়ে সাথে বলবে, হে আমার রব এই কার্ড খানা কি নিরানব্বইটি নিবন্ধ পুস্তকের সমতুল্য হবে ? তখন ব্লাহ্বে , তোমার উপর কোন প্রকার অত্যাচার করা হবেনা । আর পর ঐ কার্ড খানা এক পাল্লায় রাখা হবে তখন ঐ পুস্তক গুলোর ওজন কার্ড খানার তুলনায় অত্যন্ত নগন্য হবে এবং কার্ডের পাল্লা ভারী হবে । (অত তিরমিযি, নং ২৬৪১.আল হাকেম ২য় খন্ড পৃষ্ঠা ৫-৬ )

 

এই মহামূল্যবান কালিমার আরো ফযিলত সম্পর্কে হাফেজ ইবনে রজব তার “কালিমাতুল ইখলাছ ” নামক গ্রন্থে দলিল প্রমান সহকারে বলেন , এই কালিকা হবে জান্নাতের মূল্য, কোন ব্যক্তি জীবনের শেষ মুহুর্তে ও এ কালিমা পাঠ করে ইন্তেকাল করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে , এটাই জাহান্নাম থেকে মুক্তির এক মাত্র পথ , এবং আল্লাহর কাছথেকে ক্ষমা পাওয়ার একমাত্র সম্বল , সমস্ত পূর্ন্য কাজগুলোর মধ্যে এ কালিমাই শ্রেষ্ঠ , এটি পাপ পঙ্কিলতাকে দূর করে , রিদয়” মানে ঈমানের বিষয়গুলোকে সজীব করে, পাপ রাশির উপর এ কালিমা ভারী হবে । আল্লাহকে পাওয়ার পথে যতসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সব কিছুকে এ কালিমা ছিন্ন- ভিন্ন করে আল্লাহর নিকট পৌছে দিবে ।এ আকলিমা স্বীকৃতি দান কারীকে আল্লাহ সত্যায়িত করবেন । নবীদের কথার মধ্যে উত্তম কথা হলো এটাই , সবচেয়ে উত্তম যিকির এটাই , এটি যেমনি উত্তম কথা তেমনি এর ফলাফল হবে অনেক বেশি । এটা গোলাম আজাদ করার সমতুল্য । শয়তান থেকে রক্ষা কবজ , কবর ও হাশরের বিভিষিখাময় অবস্থার নিরাপত্যা দান করি । কবর থেকে দন্ডায়মান হওয়ার পর একলিমার মাধ্যমেই মুমিনরা চিহ্নিত হবে ।

এই কালিমার সাক্ষ্য দানকারী এর দাবি অনুযায়ী পূর্ণভাবে কাজ না করার ফলে এবং বিভিন্ন অপরাদের ফল স্বরূপ জাহান্নামে প্রবেশ করলেও অবশ্যই কোন এক সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে ।

 

ইবনে রজব (রাঃ) তার বইতে এই কালিমার এইসব ফজিলতের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং এর দলিল প্রমানাদি পেশ করেছেন ।( দেখুন কালিমাতুল ইখলাস , ৬৪-৬৫ )

 

চলবে…………….

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply