লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর মর্মকথা (পর্ব-২)

আসসালামু আলাইকুম,

সবাই ভালো আছেন আশা করি।

আবার আল্লাহর সাহায্য কামনা করে কালিমা ” لا إله إلا الله ” এর গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা শুরু করছি।

 

১/ ব্যক্তি জীবনে কালিমা ” لا إله إلا الله ” এর গুরুত্ব ও মর্যাদা :

এটি এমন একটি ণ্ডুরুত্বপূর্ণ বাণী যা মুসলমানগণ তাদের আযান, ইকামাত, বক্তৃতা-বিবৃতিতে বলিষ্ঠ কন্ঠে ঘোষণা করে থাকে , এটি এমান এক কালিমা যার জন্য প্রতিষ্ঠিত আছে আসমান জমিন, সৃষ্টি হয়েছে সমস্ত মাখলুকাত । এবং এর প্রচারের জন্য আল্লাহ যুগে যুগে পাঠিয়েছেন অসংখ্য রাসূল এবং নাযিল করেছেন আসমানি কিতাবসমূহ, প্রনয়ণ করেছেন অসংখ্য বিধান। প্রতিষ্ঠিত করেছেন তুলাদন্ড (মিজান) এবং তৈরী করেছেন জান্নাত এবং জাহান্নাম। এই কালিমাকে স্বীকার করা এবং অস্বীকার করার মাধ্যমে মানব সম্প্রদায় ঈমানদর এবং কাফির এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে । অতএব সৃষ্টি জগতে মানুষের কর্ম,কর্মের ফলাফল,পুরুস্কার অথবা শাস্তি সব কিছুরই উৎস হচ্ছে এই কালিমা । এরই জন্য উৎপত্তি হয়েছে সৃষ্টি কুলের, এ সত্যের ভিত্তিতেই পরকালিন জিজ্ঞাসাবাদ এবং এর ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হবে সওয়াব ও শাস্তি ।

এই কালিমার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুসলমানদের কিবলা এবং এ হলো মুসলমানদের জাতি সত্তার ভিত্তি-প্রস্তর এবং এবং এর প্রতিষ্ঠার জন্য খাপ থেকে খোলা হয়েছে জিহাদের তরবারী । বান্দার উপর এটাই হচ্ছে আল্লাহর অধিকার এটাই ইসলামের মূল বক্তব্য ও শান্তিয় আবাসের (জান্নাতের) চাবিকাঠি এবং পূর্বা-পর সকলই জিজ্ঞাসিত হবে এই কালিমা সম্পর্কে ।

 

আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবেন তুমি কার ইবাদত করেছ?নবীদের ডাকে কতটুকু সাড়া দিয়েছ? এই দুই প্রশ্নের উত্তর দেয়া ব্যতীত কোন ব্যক্তি তার দুই পা সামান্যতম নাড়াতে পারবেনা। এর প্রথম প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে (” لا إله إلا الله “) আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর সঠিক হবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসাবে মেনে তার নির্দেশের আনুগত্যের মাধ্যমে । আর এ কালিমা হচ্ছে কুফুর ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী . এ হচ্ছে আল্লাহ ভীতির কালিমা ও মজবুত অবলম্বন ।

 

এবং এ কালিমা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম ‘ অক্ষয় বানিরূপে রেখে গেলেন তার পরবর্তিতে তার সন্তানদের জন্য যেন তারা ফিরে আসে এপথে ” (যুখরুফ ২৮)

 

এই সেই কালিমা যার সাক্ষ্য আল্লাহ তা’য়ালা স্বয়ং নিজেই নিজের জন্য দিয়েছে, আরো দিয়েছেন ফিরিশতাগন ও জ্ঞানী ব্যক্তিগণ । আল্লাহ তা’য়ালা বলেন . شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (আলে ইমরান ১৮) আল্লাহ নিজেই সাক্ষ দিয়েছেন , তিনি ছাড়া আর কোন ইলাই নেই৷ আর ফেরেশতা ও সকল জ্ঞানবান লোকই সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সেই প্রবল পরাক্রান্ত ও জ্ঞানবান সত্তা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই৷

 

এ কালিমা ইখলাছের বা সত্যনিষ্ঠার বাণী, এটাই সত্যের সাক্ষ্য ও তার দাওয়াত এবং শিরক এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার বাণী এবং এ জন্যই সমস্ত জগতের সৃষ্টি। আল্লাহ তালা বলেন :

আমি জ্বীন ও ইনসানকে শুধূ মাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি (আয’ যারিয়াত-৫৬ )

এই কালিমা প্রচারের জন্য আল্লাহ সমস্ত রাসূল এবং আসমানি কিতাব সমূহ প্রেরণ করেছেন, তিনি বলেন :

﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ

(আল আম্বিয়া ২৫) আমি তোমার পূর্বে যে রসূলই পাঠিয়েছি তার প্রতি এ অহী করেছি যে, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই কাজেই তোমরা আমারই বন্দেগী করো৷

 

ইবনে উইয়াইনা বলেনঃ ” বান্দার উপর আল্লাহর তা’য়ালার সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো তিনি তাদেরকে “لا إله إلا الله ” তার এই একত্ববাদের সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন . দুনিয়ার পিপাসা কাতর তৃষ্ণার্ত একজন মানুষের নিকট ঠান্ডা পানির যে মূল্য আখেরাতে জান্নাতবাসিদের জন্য এ কালিমা তদ্রুপ ” এবং যে ব্যক্তি এই কালিমার স্বীকৃতি দান করল সে তার সম্পদ এবং জীবনের নিরাপত্তা গ্রহন করল . আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করল সে তার জীবন ও সম্পদ নিরাপদ করল না .( দেখুন কালিমাতুল ইখলাছ ৫২-৫৩)

 

রাসূল (সাঃ ) বলেন যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” আর স্বীকৃতি দান করল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যকে অস্বীকার করল তার ধন- সম্পদ ও জীবন নিরাপদ হল এবং তার কৃতকর্মের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাল (সহীহ মুসলিম)

 

একজন কাফেরকে ইসলামের প্রতি আহবানের জন্য প্রথম এই কালিমা স্বীকৃতি চাওয়া হয় . নবী (সাঃ) যখন মোয়াজ (রাঃ ) কে ইয়ামানে ইসলামের দাওয়াতের জন্য পাঠান তখন তাঁকে বলেন : তুমি আহলে কিতাবের নিকট যাচ্ছ, অতএব সর্ব প্রথম তাদেরকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ” এর সাক্ষ্য দান করার জন্য আহবান করবে .(সহীহ মুসলিম)

 

প্রিয় পাঠকগন এবার চিন্তা করুন , দ্বীনের দৃষ্টিতে কোন পর্যায়ে এ কালিমার স্থান এবং এর গুরুত্ব কতটুক . এজন্যই বান্দার প্রথম কাজ হলো এ কালিমার স্বীকৃতি দান করা ; কেননা এ হল সমস্ত কর্মের মূল ভিত্তি .

চলবে………….

ওমর ফারুক হেলাল

তেমন কেউ না,একজন ছাত্র।মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছি ভালো আলেম হওয়ার আশায়।পাশাপাশি দ্বীনে কিছু কাজের সাথে জড়িত আছে পরকালীন মুক্তির নেশায়। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক। আমীন

Leave a Reply